নিজের প্রতিরোধ শক্তি দিয়ে করোনাকে লড়ে নিতে হবে # লকডাউন বলে এই মুহূর্তে দেশে কার্যত কিছু নেই # ট্রেন চালু # সব দোকান খুলে যাচ্ছে # বাসও চলবে # সাংবাদিক কিংশুক প্রামাণিকের ফেসবুক পোস্ট থেকে

0
79

সাংবাদিক কিংশুক প্রামাণিকের ফেসবুক পোস্ট থেকে
————————-

প্রতিরোধই পথ
————

লকডাউন ব্যর্থ হল আমাদের দেশে।
সংক্রমণের রেকর্ড রোজই ভাঙছে।

অতপর বোঝা যাচ্ছে, ভ্যাকসিন–ট্যাকসিন সহজে আসবে না।
লকডাউনও আর থাকবে না।
নিজের প্রতিরোধ শক্তি দিয়ে করোনাকে লড়ে নিতে হবে।
সেই সময় এসে গিয়েছে।

ভাইরাসকে আর ভয় নয়।
বুদ্ধি করে তাকে ঠেকাতে হবে।
করোনা যখন এখনই যাবে না,
তাকে নিয়েই বাঁচতে হবে।

লকডাউন বলে এই মুহূর্তে দেশে কার্যত কিছু নেই।
ট্রেন চালু হয়ে যাচ্ছে।
প্রয়োজনীয় সব দোকান খুলে যাচ্ছে।
বাসও চলবে।

কলকাতায় ততটা না হলেও গ্রাম মফস্বলের লোকজনও অনেক দিন আগেই রাস্তায় নেমে পড়েছেন।
সত্যি তো, কতদিন বাড়িতে বন্দি থাকা যায়।পেটেও টান পড়েছে।
কাজ না করলে মানুষ খাবে কী?
অনন্তকাল ত্রাণ আসবে না।

টানা ৫০ দিন ঘরে থেকেও কোনও লাভ হল না। বেড়েই চলেছে সংক্রমণ।

সবাই যদি লকডাউন মানত, তা হলে কথা ছিল।
কিছু মানুষ মানবেন, কিছু মানবেন না, এতে কোনও লাভ হয় না।
সমাজের সবাই অংশীদার।
একজন ভুল করলে তার মাশুল সবাইকে দিতে হবে।
তাই বিজ্ঞানসম্মত পন্থা হলেও কাজে এল না লকডাউন।
দু’টি মাসের নিট ফল জিরো।

তবু হতাশ হলে চলবে না।
নতুন কিছু ভাবতে হবে।
বাঁচার সংগ্রাম জারি রাখতে হবে।
করোনাও থাকবে, জীবনও চলবে।
নিজেকে নিজেই রক্ষা করতে হবে।

করোনার চেয়ে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু।তবে মশারি টাঙিয়ে শুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু করোনায় সংক্রমণ রোধ করার পন্থা এত সোজা নয়।

আমাদের অনেকটা বদলাতে হবে।
এতদিন যেভাবে চলেছি, সেভাবে চলা যাবে না।অভ্যাসের আমূল পরিবর্তন দরকার।

যদি সবাই কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে একটা সময় আসবে যখন সবার মধ্যে এতটাই প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে যে করোনা হেরে যাবে। সংক্রমণ থেমে যাবে।

মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।
এটা সারা জীবনের ব্যাপার হয়ে গেল।
বহু জায়গায় মাস্ক না থাকলে ঢুকতেই দেওয়া হবে না।

স্বভাবতই মাস্ক এখন নতুন একটি ব্যবসারও নাম।

এবার পুজো হবে কি না, জানি না। হলেও পুজোয় নতুন জামা নয়, নতুন নতুন মাস্ক কেনার হিড়িক পড়তে পারে।

মাস্ক ইতিমধ্যে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যে মাস্কটি পরছেন, সেটিতে বিশাল একটি পদ্মফুল আঁকা।

স্বভাবতই, জোড়াফুল, হাত, কাস্তে হাতুরিও এবার মাস্কে গুরুত্ব পাবে।
টি শার্টে যেমন নানা কথা লেখা থাকে, এবার মাস্কেও লেখা থাকবে।
গ্লাভস, হেয়ার কভারও নানা রূপে বাজারে আসবে।

নতুন পণ্যের বাজার ধরতে ওস্তাদ চিন বানিয়ে ফেলল বলে।
আগামী দিনে ব্র্যান্ডেড মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার নিয়ে ‘গিফট প্যাক’ও পাওয়া যাবে শপিং মলগুলোতে।

কোনও ওষুধ যেহেতু নেই, করোনাকে হারানোর একটি উপায়, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়ার কোভিড আমেরিকা, ইউরোপের চেয়ে দুর্বল।
এর কারণ, আমাদের তৃতীয় বিশ্বের খেটে খাওয়া শরীর।
ফলত, দেখা যাচ্ছে ভারতে যত করোনায় মৃত্যু, সবের পিছনে রয়েছে বয়স ও অন্য রোগে শারীরিক দুর্বলতা।

পাড়ার একটা তরতাজা ছেলের করোনা হল, এবং মারা গেল, এমন ছবি কিন্তু খুবই কম।

ওষুধ নেই, কীভাবে বাঁচা যাবে, তা নিয়ে আইসিএমআর-এর নাম করে একটি তালিকা হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে।
সেটি তারাই দিয়েছে কি না জানি না।
তবে ‘গাইড লাইন’গুলি কিন্তু যথার্থ।
সেটি ও আরও কিছু তথ্য দিয়ে সাজালাম।

শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
কী করবেন, কী করবেন না–

১) দু বছর বিদেশ সফর বন্ধ। দেশের মধ্যে পর্যটন এক বছর বন্ধ রাখতে হবে।
২) বাইরের খাবার পুরো বন্ধ।
৩) বিয়ে–সহ সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা–সমাবেশ, মানে যেখানে একসঙ্গে অনেক লোক থাকবে, সেই এলাকা পুরোপুরি এড়াতে হবে।
৪) যত বেশি সম্ভব–শাক, সবজি খেতে হবে। হলুদ, এলাচ, আদা, জিরে, রসুন, কাল মরিচ, ইত্যাদি ভেষজ খেতে হবে বেশি করে।টক ও গ্রিন টি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫) সিনেমা হল, ঘিঞ্জি বাজার, শপিং মলে এক বছর যাওয়া যাবে না।
৬) সেলুন, পার্লার, স্পা, রেস্তরাঁ এড়াতে হবে।
৭) কর্মক্ষেত্রে মিটিং থাকলে সামাজিক দূরত্ব রাখতে হবে। মোবাইলে ভিডিও কনফারেন্স মিটিং করাই শ্রেয়।
৮) যতদিন না সংক্রমণমুক্ত হচ্ছে সমাজ, ততদিন ঘড়ি, রিস্ট ব্যান্ড, আংটি তাগা, তাবিজ, বেল্ট না পরা অভ্যাস করতে হবে।
৯) রুমালের বদলে স্যানিটাইজার।কিন্তু গরমের জন্য ব্যবহার করতে হলেও রোজ সেটি গরম জলে ধুতে হবে।
১০) জুতো কোনওভাবেই বাড়ির ভিতরে আনা যাবে না।
১১) পোশাক পরতে হবে সুতির।
১৩) বাইরে থেকে ঘরে এলেই হাত–পা ধুতে হবে ভাল করে।ব্যবহার করা পোষাক বেডরুমে রাখা যাবে না।
১৪) অন্তত তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট হালকা ব্যয়াম করতে হবে।
জিমে যাওয়া আপাতত বন্ধ।
১৫) গায়ে রোদ লাগাতে হবে।যত রোদে থাকা যাবে তত শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
১৬) এসির যথাসম্ভব কম ব্যবহার।
১৭) এক মাসের মধ্যে বহু মানুষের করোনা হবে। ৯০ শতাংশ সুস্থ হবে। ফলে অযথা আতঙ্ক নয়। আতঙ্কে ইমিউনিটি পাওয়ার কমে যায়। তাই ফুরফুরে থাকতে হবে।

এত কিছু মেনে চলা কতটা সম্ভব হবে বলা শক্ত।
কিন্তু কিছু জিনিস করতেই হবে।
যত কম ট্রাভেল তত বেশি রোগমুক্তি।
যত বেশি প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া, তত বেশি প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি।

নিয়ম গুলো মানলে শুধু করোনা কেন আরও নানা মারণব্যাধি ছুঁতে পারবে না।

তাই, সবারকে বুঝতে হবে এতদিন যেভাবে সব চলেছে, এবার আর চলবে না।
করোনা বদল দিয়েছে পৃথিবীকে।

বাঁচতে গেলে নিজেকেও বদলাতে হবে।
😀😀😀😀😀

কিংশুক প্রামাণিক
12 মে 20

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here