নন্দিনী সুষমা দাস,  পুষ্টিবিদ #  ফেসবুকে লিখেছেন # অনেকেই আমাকে পিরিয়ড নিয়ে লিখতে বলেছিলেন

0
102

নন্দিনী সুষমা দাস,  পুষ্টিবিদ #  ফেসবুকে লিখেছেন #

অনেকেই আমাকে বলেছিলেন পিরিয়ড নিয়ে লিখতে।

লেখাটা কেমন ভাবে শেষ করবো জানিনা।

অনেক বড় একটা সাইয়েন্স আছে এর পিছনে।

আধুনিক সমাজ ও এখনো নাক সিটকোয়।মেয়েদের অচ্ছুৎ ভাবে।এখনো আলাদা করে রাখে।মন্দিরে মেয়েদের প্রবেশ নিষেধ।পুজো তারা করতে পারবে না। তাতে নাকি ঠাকুর অশুদ্ধ হয়ে যাবে।

আমি তো বুঝিনা আমার এই নগন্য শরীরের এতটাই ক্ষমতা যে আমি পরমব্রহ্মকেও অশুদ্ধ করতে পারি?

অথচ বয়স পেরিয়ে গেলে আর মেয়েটির পিরিয়ড না হলে সেই সমাজ কত কথা না বলবে মেয়েটাকে নিয়ে।

এমনকি তাকে কোনো ‘সুপুত্র’এর পরিবার ঘরেও তুলবেনা।।

যাইহোক এবার আসি কী এই জিনিস, যাকে এখনো মানুষ মেনে নিতে পারেনি।

প্রশ্ন করেছেন অনেকে, যে রক্ত  বিশুদ্ধ না শুদ্ধ?

প্রথমেই বলি আমার কাছে আমার দেহের সব কিছু ভীষণ পবিত্র।

এবার আসি এই ব্লাড নিয়ে।

মেয়েদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ওভারি,ইউটেরাস,ফালোপিয়ান টিউব।

ওভারি থেকে ডিম্বাণু প্রতিমাসে নিঃসৃত হয়,সেটা ফালোপিয়ান টিউবের মাধ্যমে এসে অপেক্ষা করে ইউটেরাসে নিষিক্ত হবার জন্য। এবং শুক্রানু ও ডিম্বাণু যখন মিলিত হয় খুব সহজভাবে বললে তাদের থাকার জন্য একটা বেড তৈরি হয়।

সেই বেডটা আর কিছুই না আমাদের সেল গুলো ফুলে ফেঁপে ওঠে একপ্রকার। তার ফলে ওখানে উপস্থিত শিরা,উপশিরা গুলোও এক্সটেন্ড হতে থাকে।যখন শুক্রাণু ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়না তখন সেই বেডটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। এবং সেই সেল বেডটি রাপচার করে। তার ফলে ব্লিডিং হয়।

এত গেলো ভীষণ সহজ ভাষায়। কতটা কাঁটা ছেঁড়া হয় পেটে আমাদের। তারসাথে বাইরের লোকেদের হাজারটা গোড়ামি।এর সাথে জড়িত অনেক হরমোন যাদের প্রভাবে এই প্রক্রিয়াটা হয়। এবং  আমাদের মুড সুইং। শরীর আনচান করা চলে।

ছোট বাচ্চাদের মনে কোনো কুসংস্কার, ভয় আনবেন না। appreciation of period ভীষণ ভাবে দরকার। একবার করতে অভ্যেস করুন। আগামী প্রজন্মের pcod বা অন্য সমস্যা অনেক অনেক কমে যাবে।

এই লেখা আপনি যদি খুব স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেন তবেই কমেন্ট করবেন।

নেগেটিভ জিনিস চাইনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here