দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হল # আপার প্রাইমারির নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল # স্কুল সার্ভিস কমিশন এমনকি একটি নির্বাচিত সরকার যে বিচার দেয়নি সেই বিচার দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
40
# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #
।।।।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।
আপার প্রাইমারির শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
স্কুল সার্ভিস কমিশন এমনকি একটি নির্বাচিত সরকার যখন বিচার দেয়নি তখন বিচার দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য।
মাননীয় বিচারপতিকে অসংখ্য ধনবাদ।
তার রায়ে একটা অন্যায়ের প্রতিকার হবে বলে আশা রাখি। প্রতিষ্ঠা হবে ন্যায়ের।
তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চ এমনকি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অবকাশ আছে।
আমাদের দেশের সংবিধানের ৪ টি স্তম্ভ। ১) আইন প্রণয়নকারি সংসদ ও বিধানসভা,২) কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন,৩) আদালত,৪) প্রেস।
দেশের নাগরিকরা ভোট দেন। তাতে কেন্দ্রে ও রাজ্যে ৫ বছরের জন্য সরকার গঠিত হয়।
সরকার আসলে নাগরিকের তত্বাবধায়ক।
সেই সরকার ভুল ও গর্হিত কাজ করলে আদালত তার বিচার করে।
আর প্রেস নজর রাখে তিনটি স্তম্ভের কাজের উপর।
প্রেসের হাতে কোনও প্রশাসনিক বা আইনি ক্ষমতা নেই। কিন্তু প্রেস অন্যায় অবিচার তুলে ধরতে পারে। এই ক্ষমতা সংবিধান প্রেসকে দিয়েছে।
প্রেস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারে কোথায় সরকার অন্যায় করছে।
সেইভাবেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া যে সঠিক ছিল না, তা প্রেস বহুবার তুলে ধরেছে।
এই নিয়ে মামলা হয়। মামলাকারিরা হাইকোর্টে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াতে যে দুর্নীতি হয়ে তা তথ্য সহ তুলে ধরেন।
শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল করে দিয়েছে শুক্রবার।
হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছে, টেট পরীক্ষার ফল ও প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা  সহ  প্রশিক্ষিতদের ডেকে ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করতে হবে।

দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে থমকে রয়েছে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া৷

মেধাতালিকায় অনিয়ম-সহ গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ তুলে দায়ের হয় মামলা৷

শুনানি চলাকালীন নিয়োগের উপর জারি ছিল স্থগিতাদেশ৷

দীর্ঘ শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অবশেষে  শুক্রবার রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট৷

গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের রায় ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট৷

 

উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ মামলার রায় ঘোষণা করে হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১১ ও ২০১৫ সালের উচ্চ প্রাথমিকে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল৷

বাতিলের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের৷

নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট৷

শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপোষণ, দুর্নীতির সরাসরি অভিযোগে বাতিল গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া৷

উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্যানেল ও মেধাতালিরা সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট৷

আগের প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

হাইকোর্ট বলেছে…………….

১) আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে  নতুনভাবে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে  হবে৷

২)  ১০ মের মধ্যে ইন্টারভিউ নিতে হবে৷

৩)  ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া৷

৪) যারা নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ গিয়েছিল, তাদের সবাইকে সুযোগ দিতে হবে ৷

৫) চাইলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এইসব প্রক্রিয়া করতে পারে স্কুল সার্ভিস কমিশন৷

আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন……..

,১) কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে  প্রমাণিত হল, যারা নতুন নিযুক্ত হবেন তারা দুর্নীতির মাধ্যমে নিযুক্ত হবেন না৷

আদালতের রায় ঘোষণার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন……….

১) বিচারাধীন বিষয়৷

২) সমস্ত কিছু দেখে, যারা নিয়োগ করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখব৷

বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় বলেন……..

১) বাংলায় সমস্ত কিছু অনিয়মিত৷

২) এই অনিয়মিত বিষয় এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে৷ বাংলায় নিয়মিত কিছু হয় না৷

 

আদালতের নির্দেশে প্যানেল ও মেধাতালিকা বাতিল হতেই রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শিক্ষক মহল৷

শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন………….

১) অস্বচ্ছতার নজির সৃষ্টি করে বহু চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যতকে নষ্ট করেছে সরকার৷

২) ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই৷

৩) নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সফল প্রার্থীরা নতুন করে সাফল্য পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে৷

৪) দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার ফলে যেসব চাকরিপ্রার্থীর বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাদেরও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক৷

৫) আগামীতে দ্রুত নিয়োগের জন্য যা যা করণীয় পদক্ষেপ তা গ্রহণ করতে হবে।

৬) সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগের জন্য প্রকাশ্যে চাকরিপ্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের তালিকা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু সর্বসমক্ষে প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি৷

মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র বলেন…………

১) উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছি৷

২) আদালতের রায়ে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হল৷

৩) রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত, বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে এই প্রতারণা কোনভাবেই মানা যায় না৷

৪) আমরা আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here