কেন্দ্রের মোদি সরকারের নীতির প্রতিবাদে দেশ জোড়া শ্রমিক ধর্মঘট # বিরুদ্ধে তৃণমূল # এটা হওয়ারই ছিল # নকশালরা আর কবে বুঝবে # ফেসবুকে লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রসূন আচার্য

0
67

কেন্দ্রের মোদি সরকারের নীতির প্রতিবাদে দেশ জোড়া শ্রমিক ধর্মঘটের বিরুদ্ধে তৃণমূল। এটা হওয়ারই ছিল। নকশালরা আর কবে বুঝবে?

——-প্রসূন আচার্য

ধর্মঘট ডেকে কী হবে?

ধর্মঘট কর্মনাশা।

ধর্মঘট ডেকে কিছুই ফল হয়না।

এই সব ফালতু বিতর্কে যাচ্ছি না।

কারণ, এই সব যারা প্রচার করে, তারা নিজেরাও জানে, সভ্য দেশে সংসদের বাইরে প্রতিবাদের দুটি হাতিয়ার।

ধর্মঘট আর অবস্থান জমায়েত।

গাঁধী যাকে বলতেন সত্যাগ্রহ।

আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালির মত উন্নত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রেও ধর্মঘট হয়।

অনেক সময়েই টানা তিন বা চার দিন হয়।

শুধু কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্রী চিন বা ভিয়েতনামে ধর্মঘট হয় না বা করতে দেওয়া হয় না।

সুতরাং বহুল প্রচারিত বাংলা সংবাদপত্র থেকে আরম্ভ করে বিরোধী থাকার সময় নিজেদের প্রয়োজনে বার বার বনধ ডাকা তৃণমূল আর রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী দলের বিধায়কদের কোটি কোটি টাকা দিয়ে কিনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা অমিত শাহের বিজেপি কী বললো, তাতে সত্যি চাপা থাকে না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই সময়ে দেশ জুড়ে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিএমএস বাদে অন্যরা একযোগে এই ধর্মঘট ডাকলো?

কারণটা হচ্ছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে অনেক কষ্টে যে রাষ্ট্র সম্পদ তৈরি হয়েছিল, করোনার মহামারীর সুযোগ নিয়ে আর্থিক ঘাটতি মেটাতে নিজেরদের পেটোয়া আদানি, আম্বানি-সহ অন্য শিল্পপতিদের কাছে মোদি-অমিত শাহ-নির্মলা সীতারামনরা তা বেচে দিচ্ছে।

ভারতীয় রেল, খনি, বিমান বন্দর সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে সরকারি তেল কোম্পানি।

শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার খদ্দের পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিক্রি হচ্ছে না।

এমনকি প্রতিরক্ষা, বন্দুক, গোলা বারুদের কারখানাও তুলে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি হাতে।

আর এগুলি কেনার জন্য টাকা জুগিয়ে আরও দেউলিয়া হচ্ছে আমাদের টাকায় তৈরি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক।

মোদি জমানায় লাভে থাকা বিএসএনএলকে পঙ্গু করে মেরে দেওয়া হয়েছে মুকেশ আম্বানির জিও-কে কোটি কোটি টাকা মুনাফা পাইয়ে দিতে।

এমনকি ভোডাফনের মতো ব্রিটিশ কোম্পানি, টাটা, আদিত্য বিড়লার মত কোম্পানিকেও টেলিকম শিল্পে হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সব থেকে ভালো বিড করা সত্ত্বেও কোচি বিমানবন্দর আধুনিক করার কাজ কেরল সরকারের ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানিকে না দিয়ে আদানিকে দেওয়া হয়েছে।

যারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, টাকা ও কর্মীর অভাবে এখন কাজই শুরু করতে পারবেনা।

বহু ট্রেন বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে রেল স্টেশন।

শুধু তাই নয়, আমেরিকায় মে দিবস আন্দোলনের ফলে গোটা বিশ্বে আজ যেখানে শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কাজ স্বীকৃত, সেখানে ১২ ঘণ্টা কাজের জন্য আইন করছে মোদি সরকার।

ট্রেন পুরো চালু হলে হকারদের পেটে লাথি মেরে স্টেশনের স্টলগুলিও তুলে দেওয়া হবে আদানি-আম্বানিদের কোম্পানির হাতে। তারজন্য সব পেপার ওয়ার্ক সারা হয়ে গিয়েছে।

শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ইতিমধ্যেই আদানি-আম্বানির জন্য নতুন কৃষি আইন করে চাষিদের পেটে লাথি মারার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে।

তুলে দেওয়া হয়েছে কৃষি পণ্য মজুত এর ঊর্ধ্বসীমা।

ফলে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্য তেলের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ জানে না। পেঁয়াজ আজ ৬০ টাকা। আলু ৪৫ টাকা। যে সর্ষের তেলের দাম গত বছর এই সময়ে ছিল ৯০টাকা , আজ তা ১৪০/১৫০ টাকা।

একদিকে মানুষের কাজ নেই। ১৫/২০ কোটি প্রবাসী শ্রমিক গ্রামে ফিরেছে। সেখানেও কাজ নেই। কৃষিতে লাভ নেই।

সরকারি চাকরি দিবাস্বপ্ন।

যে টুকু আছে, সেখানেও ভিআরএস দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরি নেই।

তার মধ্যেই সরকারি ব্যাংক সংযুক্তিকরণের নামে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

লোক ছাঁটাই হচ্ছে।

একের পর এক বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ হওয়ার পরেও আদানি আম্বানিদের নতুন করে ব্যাংক খুলতে ডাকা হচ্ছে।

অথচ কদিন আগেই ইয়েস ব্যাঙ্ক উঠে গেল।

এবার উঠে যাচ্ছে লক্ষী বিলাস ব্যাংক।

আজও মুম্বাইয়ের পিএমসিএইচ ব্যাংকের লাখ লাখ গ্রাহক টাকা ফেরত পায়নি।

সর্বস্বান্ত হয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছে এক বছরের উপর।

এর বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ।

সব বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য কর্মী সংগঠন প্রতিবাদে সামিল হতে ধর্মঘট ডেকেছে।

এখন এই রাজ্যে তৃণমূল এর বিরোধিতা করছে।

মমতা-সরকার বলেছে, যানবাহন-সহ সব কিছু খোলা থাকবে।

এর জন্য বেশি করে পুলিশ পথে নামানো হচ্ছে।

তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়নের সর্বভারতীয় কোনও স্বীকৃতি নেই।

কিন্তু এই রাজ্যে তাদের ক্ষমতা আছে।

তারাও এই ধর্মঘটের বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন একটাই, এই বিষয় গুলির সঙ্গে তৃণমূল একমত কিনা?

যদি হয়, হলে ধর্মঘটে সামিল হলো না কেন?

আসলে তৃণমূল দল যতই মুখে বিজেপির বিরোধিতা করুক, ভুললে হবে না, জন্মলগ্ন থেকেই তারা বার বার বিজেপির সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়েছে।

এক সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারে গিয়েছে।

মমতা ব্যানার্জি মন্ত্রী হয়েছেন।

সব মিলিয়ে দুই দলের আদর্শ ও শ্রেণি চরিত্রের বড় কোনও পার্থক্য নেই।

এমনকি মার্ক্সবাদের বিরোধিতা এবং রাজনীতিতে ধর্মকে নানা ভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও খুব বেশি পার্থক্য নেই।

তাই এটাই হওয়ার ছিল।

মাঝখান থেকে কিছু উগ্র বামপন্থী, মাওবাদী এবং নকশালপন্থীরা এক শত্রু?

নাকি দুই শত্রু?

এই বিতর্কে বাজার গরম করল।

তারা আর কবে বুঝবে?

C@Prasun Acharya

Plz like and share.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here