একটা সরকার ২৩৫-এর গরম দেখিয়েছিল # তার কী হাল হয়েছে তা আপনারা জানেন # নন্দীগ্রাম থেকেই তার পতনের সূচনা # মাথা নত করেনি মেদিনীপুরের মানুষ # এটা মনে রাখতে হবে # শুভেন্দু অধিকারির এই কথাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব # তাই পিকেকে ছুটে যেতে হয়েছে অধিকারি বাড়িতে # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
68

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

।।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র ।।।।।।।।।।

শুভেন্দু অধিকারিকে ভয় পেয়েছে প্রশান্ত কিশোরেরা।

কীরকম ভয় তার আন্দাজ পাওয়া গেল কাথিতে অধিকারি বাড়িতে প্রশান্ত কিশোরের যাওয়া অর্থাৎ  তাকে পাঠানো।

কংগ্রেস ১৯৯৮ সালে মমতা ব্যানার্জিকে বুঝে উঠতে পারেনি।

একদিকে কংগ্রেসকে বাংলায় অস্তিত্বহীন করে দেওয়া অন্যদিকে সিপিএম অর্থাৎ  বামেদের বিরুদ্ধে লাগাতার  আন্দোলন করে যাওয়া।

শুভেন্দুর আন্দোলন কিন্তু আলাদা।

তার নিজের দলের কাছে অপমানিত হয়ে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন। দলের বিরুদ্ধে নয়।

পরিস্থিতি এরকম হতো না,যদি না শুভেন্দু অধিকারিকে দলে কোনঠাসা না করা হতো।

শুভেন্দুকে যেদিন দলের যুব সভাপতি থেকে সরানো হল,সেদিন থেকেই তার ভিতরে পুঞ্জীভূত হতে থাকল ক্ষোভ।

এখন তার বহিপ্রকাশ।

জেলা ও ব্লক পর্যায়ে দলীয় স্তরে ব্যাপক রদবদলে দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ।

তৃণমূল দক্ষিণপন্থী । এই দলের অভ্যন্তরে ভোটের বালাই নেই। সবটাই মনোনীত। মনগড়া।

এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীকে  ঘিরে জল্পনা বেড়েছে। বেড়েছে ভয়। আতঙ্ক।

মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে  শহিদ স্মরণে সমাবেশের মঞ্চ থেকে ভাষণে দল এবং নেত্রীর কথা একবারও উচ্চারণ করেননি রাজ্যের পরিবহণ তথা সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার ঘাটালে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে সেই শুভেন্দুর ভাষণেই  দল ও নেত্রীর কথা উঠে এলেও তার দৃষ্টিভঙ্গির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

ওইদিনই ঘাটাল থেকে শুভেন্দু যান হুগলির মহানাদে। সেখানে তার মঞ্চে ছিলেন হুগলির অনেক তৃণমূল নেতানেত্রী। উপস্থিত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারি কাঁথিতে  অধিকারি বাড়িতে যেতে হয় প্রশান্ত কিশোরকে।

শুভেন্দুর বাবা ও তৃণমূল সাংসদ তথা দলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ  বৈঠক করেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর তথা পিকে।

শুভেন্দু ওইসময় বাড়িতে ছিলেন না।

বৃহস্পতিবার ঘাটালের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ মেলে ধরতে গিয়ে  শুভেন্দু অধিকারি বলেন, ২০১১ সালে রাজ্যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের দলের নেত্রীর নেতৃত্বে যে লড়াই হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে দলের বিধায়ক প্রার্থীর হাত ভেঙে দিয়েছিল সিপিএম। সেই সময় কাঁথির বাড়ি থেকে ঘাটালের লক্ষ্মণপুর গ্রামে ছুটে এসেছিলাম। সেই প্রার্থীর চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি। আমি ঘাটালের মানুষের পাশে আছি, ছিলাম, থাকব।

নিজেকে পান্তাভাত-খাওয়া, মাটিতে-বসা তৃণমূল স্তরের কর্মী বলে উল্লেখ করে পরিবহণমন্ত্রী  বলেন, শুভেন্দু ছাত্রাবস্থা থেকে ঘাটালের সঙ্গে ছিল, আছে থাকবে। চরৈবেতি, চরৈবেতি মন্ত্রে এগোব। অন্যরা দেখবে আর জ্বলবে,লুচির মতো ফুলবে।

বৃহস্পতিবার ঘাটাল শহরের বিদ্যাসাগর হাইস্কুল মাঠে দাসপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, আমি নীচে বসা কর্মী, তৃণমূল স্তরের কর্মী। আমার উপর আপনাদের আস্থা আছে তো?

উপস্থিত জনতা তখন হাত তুলে সমস্বরে সমর্থন জানায় তাঁকে।

ঘাটালে বক্তব্যের অন্তিম পর্বে সেই নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দু বলেন…………….

১) ভারতের স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট।

২) তারও আগে ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম তমলুকে তাম্রলিপ্ত সরকার গঠন করেছিলেন সতীশ সামন্ত, অজয় মুখোপাধ্যায়রা।

৩) আর একটা সরকার ২৩৫ এর গরম দেখিয়েছিল, তার কী হাল হয়েছে তা আপনারা জানেন।

৪) নন্দীগ্রাম থেকেই তার পতনের সূচনা।

৫) মাথা নত করেনি মেদিনীপুরের মানুষ, এটা মনে রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here