এই অবস্থায় দিদি হারবেন # এই গুজব যদি কাজ করে # তাহলে রাজনীতির নতুন এক ধারা নির্মিত হয়েছে বলে মেনে নিতে হবে # বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল  আবসার ফেসবুকে লিখেছেন 

0
69

বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল  আবসার ফেসবুকে লিখেছেন #

 

যারা দিদিকে দেখে দল করেন তারা দাদাদের চলে যাওয়া দেখে আতংকিত কেন?

 

কংগ্রেস ছেড়ে তারা টিএমসিতে কী দাদাদের দেখে এসেছিলেন?

 

না দিদিকে দেখে।

 

আসলে বিজেপি একটা ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে এবারে দিদি হারছে।

 

যেহেতু সমর্থক নেই, কর্মী নেই তাই এই ধারণা ছড়িয়ে দিয়ে জনজাগরণ ঘটাতে চাইছে বিজেপি।

 

বিজেপির সুরে সুর মিলিয়েছে বাম ও কংগ্রেস।

 

কিন্তু ফল বেরোলেই বোঝা যাবে ধারণার সাথে বাস্তব অবস্থার ফারাক কতটা।

 

২০০৬ সালে এইরকম একটা ধারণা বানানো হয়েছিল।

 

দিদির কাল্পনিক ক্যাবিনেটও তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

 

কিন্তু বামফ্রন্ট ওই বছর সব থেকে বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

 

বুদ্ধদেববাবু মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

 

তারপরেও তাকে হারাতে রাজ্যে অনেক ঘটনার ঘনঘটা হয়।

 

সিঙুর -নন্দীগ্রাম।

 

২০০৯ সালের লোকসভা ভোট ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে দিদিকে কংগ্রেসের সাথে জোট করতে হয়েছিল।

 

তদুপরি বামফ্রন্ট যে পায়ের তলায় মাটি হারাচ্ছে তা ২০০৮ সাল থেকে বুঝতে পারা গিয়েছিল।

 

বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে নীচের তলার মানুষের ক্ষোভ দিনের পর দিন বাড়ছিল।

 

২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেস টিএমসির সরকারিভাবে কোনও জোট হয়নি।

 

কিন্তু দুই দলের নীচুতলার কর্মীরা সাধারণ মানুষের চাপে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জোট করে হাজার হাজার পঞ্চায়েত থেকে বামফ্রন্টকে উতখাত করে।

 

বামফ্রন্ট আমলেও ব্যাপক রিগিং হত ( যদিও তারা দাবি করে তাদের আমলে কস্মিনকালেও রিগিং বা বুথ দখল হয়নি)।

 

কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে তারা রিগিং করতে সাহস পায়নি।

 

এইসব নানা ঘটনা প্রবাহের শেষ পরিণতি হিসাবে পতন হয় ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের।

 

অথচ সে সবের কিছুই তো দেখছি না।

 

নীচের তলায় কোনও আন্দোলন নেই সব উপরতলার হুংকার।

 

যার শিরোমণি হচ্ছেন রাজ্যপাল।

 

এছাড়া দিল্লি থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন আর শাসক দলের উচ্ছৃংখল কিছু কর্মীর হাতে ইট পাটকেল খেয়ে কান্নাকাটি ও হুমকি।

 

তুরুপের তাস হল শাসক দলের কিছু প্রথম শ্রেণীর নেতার বিবেক সহসা জেগে ওঠা এবং বিবেকের দংশন সামলাতে বিজেপিতে গিয়ে শান্তি খোজা।

 

অন্যদিকে একাই ব্যাটন তুলে নিয়েছেন নেত্রী। স্বাস্থ্যসাথীর মত জনপ্রিয় এবং উপযোগী একটি প্রকল্প ঘোষনা করে মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি।

 

হাজার হাজার মানুষ তার সভায় ভিড় করছেন তার সভায়।

 

এখনও মানুষ তার কথা শুনছেন। জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন এমন তিলমাত্র সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

 

এই অবস্থায় দিদি হারবেন, এই গুজব যদি কাজ করে তাহলে রাজনীতির নতুন এক ধারা নির্মিত হয়েছে বলে মেনে নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here