আপনি আমি প্রতিদিন আলু কিনছি ৪৫ টাকা কেজিতে # সেই আলু হিমঘর থেকে বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা কেজিতে # ধাপে ধাপে পাটিগণিতে ২৭ হয়ে যাচ্ছে ৪৫ # চলছে বিরাট আলু-সিন্ডিকেট # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
125

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

।।।।।।।।।। শ্যামলেন্দু মিত্র ।।।।।।।।।।
আপনি আমি প্রতিদিন আলু কিনছি ৪৫ টাকা কেজিতে।
সেই আলু হিমঘর থেকে বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা কেজিতে।
তাহলে ২৭ টাকা কেজির আলু কেন আমাদের ৪৫ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে?
রাজ্যে সরকার আছে।
তারা তাহলে কী করছে!
এবারে হিমঘরে যারা আলু রেখেছিল তারা কেজি প্রতি ১৫ টাকা গড়ে লাভ পেয়েছে।
হিমঘরে আলু রাখার বন্ড কারা পেয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করলেই জানা যাবে। তারা চাষি না আলু ব্যবসায়ী না রাজনৈতিক ব্যক্তি।
কেন আলুর এত দাম বাড়ল তার একটা পাটিগণিত  দিয়েছেন হিমঘর মালিকরা।
১) চাষির কাছ থেকে এবারে হিমঘরে আলু ঢুকেছে ১২ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে আলুর দাম ১০ টাকা কেজি।
২) ১২ টাকার মধ্যে আলু+বস্তা+ক্যারিং কস্ট যুক্ত।
৩)  হিমঘরের ভাড়া  একটা মরসুমের জন্য কেজিতে ১ টাকা ২৫ পয়সা।
৪) সব মিলিয়ে ১৩ টাকা ২৫ পয়সা  কেজি।
৫) চাষি এবারে আলু বিক্রি করেছিল ৮/১০ টাকা কেজিতে।
৬) ২৭ টাকা কেজিতে হিমঘর থেকে আলু বিক্রি হচ্ছে।
৭) তাহলে যারা হিমঘরে আলু রেখেছিল তারা (২৭-১৩.২৫) ১৩.৭৫ টাকা কেজিতে লাভ পেল।
৮) ১৪.৭৫ টাকা কেজিতে লাভ মানে মাত্রা ছাড়া লাভ।
৯) এবারে হিমঘর থেকে আলু যারা ২৭ টাকায় কিনছে তাদের হিমঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা  একটি গ্রুপকে নগদে ৫ টাকা কেজিতে দিতে হচ্ছে।
১০) এরা কারা তা সবাই জানে। কেউ মুখ খুলছে না।
১১) এরপর  হিমঘর থেকে কলকাতা সহ  বিভিন্ন এলাকায় আলু পৌছতে অন্তত ৪/৫ টি থানা অতিক্রম করতে হয় ট্রাককে।
১৩) সেখানে কেজি প্রতি নজরানা দিতে হয়।
১৪) এরপর আলুর ট্রাক আসে পাইকারি আলুর গুদামে।  সেখানে আছে কেজি প্রতি নজরানা।
১৫) সেখান থেকে এলাকাভিত্তিক বাজারে যায়। সেখানেও কেজি প্রতি নজরানা।
১৬) তারপর পাইকারি আলু ব্যবসায়ী হয়ে খুচরো বাজারে আলু যায়।
১৭) সেই আলু আপনি আমি কিনছি ৪৫ টাকা কেজিতে।
# পরিস্কার হয়ে গেল, কীভাবে ধাপে ধাপে ২৭ টাকা কেজির আলু আমাদের কিনতে হচ্ছে ৪৫ টাকায়।
# সবাই সব জানে।
# এটা একটা বিরাট আলু-সিন্ডিকেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here