আজ ২৯ নভেম্বর প্রমোদ দাশগুপ্তের মৃত্যুদিন # ফেসবুকে লিখেছেন স্বপন কোনার # প্রমোদ দাশগুপ্তের অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা, তীক্ষ্ণ বোধ, মার্ক্সিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও সহজ সরল জীবনযাপন চিরকাল মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

0
62

ফেসবুকে লিখেছেন স্বপন কোনার #

প্রমোদ দাশগুপ্ত (১৩ জুলাই ১৯১০ – ২৯ নভেম্বর ১৯৮২) ১৯৬৪ সালে পার্টির জন্ম থেকে ১৯৮২ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সিপিআই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক ছিলেন।

পলিটবুরোরও সদস্য ছিলেন, কমরেড প্রমোদ দাশগুপ্ত দল এবং পার্টির ক্যাডারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর নেতৃত্বে, সিপিআই (এম) -র নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের এক দুর্দান্ত বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

এবং দাশগুপ্তের মৃত্যুর পরে বেশ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবং পার্টিতে প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে রয়ে গিয়েছিল।

প্রমোদ দাশগুপ্ত অবিভক্ত বাংলার কুঁয়োরপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর বাবা সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত একজন চিকিৎসক ছিলেন।

দাশগুপ্তের আট ভাইবোন ছিল, তিনি ১৯২৪ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে অনুশীলন দলে যোগ দেন।

১৯২৮ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং ব্রজমোহন কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ায় প্রবৃত্ত হন।

এরপরেই তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কলকাতায় সরিয়ে নিয়েছিলেন।

কলকাতা কর্পোরেশন ওয়ার্কশপে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ শিক্ষানবিশ ছিলেন।

১৯২৯ সালে বিখ্যাত মেছুয়া বাজার বোমা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সতীশচন্দ্র পাকড়াশী, সুধাংশু দাসগুপ্ত ও সত্যব্রত সেনের মতো আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছিল, যদিও প্রমোদ দাশগুপ্তকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ ছিল না।

তবে তাঁকে বেঙ্গল ফৌজদারি আইন সংশোধন আইনে আটক করা হয়েছিল।

তিনি আট বছরের জন্য বাংলার বিভিন্ন কারাগারে এবং দেওলি আটক শিবিরে ছিলেন।

১৯৩৭ সালে তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।

১৯৩৮ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও ১৯৪৫ সালে দলীয় মুখপত্র ‘স্বাধীনতা’র কর্মাধ্যক্ষ হন।

১৯৪৭ সালে প্রাদেশিক কমিটির সদস্য হন, ১৯৬০ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্য সম্পাদক, পরের বছর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন।

১৯৬৪ সালে পার্টি বিভক্ত হলে সিপিআই (এম) দলে যোগ দেন।

১৯৬১ থেকে ১৯৭৭ সালে পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তার সংঘটন ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।

চিকিৎসার জন্য চিন দেশে যান।

তার সঙ্গে ছিলেন কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

চিনের বেইজিংয়েই তার মৃত্যু হয়।

কমরেড প্রমোদ দাশগুপ্তের অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা ও তীক্ষ্ণ বোধ ও মার্ক্সিয় দৃষ্টিভঙ্গি ,সহজ সরল জীবনযাপন চিরকাল মানুষের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন ও শ্রদ্ধার আসনে থাকবেন।

লাল সেলাম শ্রদ্ধেয় কমরেড প্রমোদ দাশগুপ্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here