আজ যিনি হোয়াইট হাউসে পৌছলেন, যিনি হলেন নবনির্বাচিত  মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সেই  জো বিডেন তার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করতে যান স্ত্রীর পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
156

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

 

।।।।।।।।।।শ্যামলেন্দু মিত্র।।।।।।।।।।।

 

আজ যিনি হোয়াইট হাউসে পৌছলেন, যিনি হলেন নবনির্বাচিত  মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সেই  জো বিডেন তার জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন।

শীতের রাতে আমেরিকার ডেলাওয়ারে মেমোরিয়াল ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে রেলিং-এর ধারে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিচে ডেলাওয়ারে নদীতে ঝাঁপ দেবেন জীবন শেষ করে দিতে চান।

পারিবারিক দুঃখ ও যন্ত্রণা তাকে  আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

৫ টি ইন্দ্রিয়ই বিকল হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত  ঝাঁপ দিতে পারেননি তিনি । ফিরে যান ব্রিজের ধার থেকে।

আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের  দেড় মাস আগেই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন  মার্কিন সেনেটর পদে।

সেনেটর হওয়ার আনন্দ ও বড়দিনের প্রস্তুতিতে  দুই পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে  কেনাকাটা করতে যান বিডেনপত্নী।

বাড়ি ফিরে একসঙ্গে আনন্দ  উপভোগ করার কথা । কিন্তু  বিধি বাম নিজের অফিসে বসেই খবর পান,   ট্রাক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন স্ত্রী।  শিশুকন্যা দুই পুত্র হাসপাতালে লড়াই করছে মৃত্যুর সঙ্গে।

বিডেনের সাজানো সংসার  এভাবেই হঠাৎ ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো।

ডেলাওয়ারে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার সময় আলাপ ১৯৬১ সালে নেলিয়া হান্টারের সঙ্গে।  ভালবাসা থেকে প্রেম ও বিয়ে ১৯৬৬ সালে।

বিডেন স্ত্রীকে প্রায় বলতেন নিজের স্বপ্নের কথা  একদিন সফল রাষ্ট্রনেতা হবেন । মার্কিনদের স্বপ্নের জননেতা।

আত্মহত্যার মুখ থেকে  ফিরে এসে শুরু হল লড়াই। একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব। অন্যদিকে সন্তানদের মানুষ করে তোলা। জীবন যুদ্ধে  জড়িয়ে পড়লেন জো বিডেন।

অফিসের  কাজ সামলে  বাড়ি  ফিরে গৃহস্থালির সব কাজ করতে হত।  সন্তানদের সামিলাতে হত।   হাল ছাড়েননি বিডেন।

সন্তানদের মানুষ করতে পেরেছিলেন । পুত্র বিউ বড়ো হয়ে  যোগ দিলেন সেনাবাহিনীতে। সেখান থেকে ফিরে এসে হাঁটলেন বাবার পথেই,রাজনীতিতে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন বিউ।

আবার শোকের  ছায়া  জো বিডেনের বাড়িতে।

বিডেন তখন আমেরিকার  উপ-রাষ্ট্রপতি।

বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তাঁর সন্তান বিউ। রিপোর্ট আসতেই যেন অন্ধকার করে এল দু’চোখে। পুত্রের ক্যানসার। বিউয়ের মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ। ২০১৫ সালে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।

মৃত্যুশয্যায় থাকা বিউয়ের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, শত প্রতিকূলতাতেও পিছিয়ে আসবেন না তিনি।

নিজের সততা বজায় রেখেই লড়ে যাবেন রাজনৈতিক লড়াই।

ছেলেকে দেওয়া সেই কথা রাখতেই হয়তো রাষ্ট্রপতির দৌড়ে নামেন আজ জো বিডেন।

৫  বছর  আগে তো তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন সরে যাবেন সবকিছু থেকে।

নিজের সবথেকে কাছের মানুষ প্রিয় পুত্রের মৃত্যু টলিয়ে দিয়েছিল তাঁকে।

তবে এই ধরণের প্রতিবন্ধকতাকে ছেলেবেলা থেকেই সঙ্গে নিয়ে বড় হয়েছেন বিডেন।

দারিদ্র্যতা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

বাবা ছিলেন পেনসিলভেনিয়ার সামান্য একজন সেলসম্যান।

তা নিয়ে তো হাসি ঠাট্টা চলত বিডেনের স্কুলে।

কথা বলতেও সমস্যা ছিল কিশোর বিডেনের।

স্ট্যামারিংয়ে আটকে যাওয়া বিডেন  বন্ধুদের ব্যাঙ্গের শিকার হতেন ।

এসবের মধ্যেও তাঁকে চিরকাল মানসিক দৃঢ়তা যুগিয়েছিলেন তাঁর বাবা।

পরে পরে অবশ্য বিডেন ভাল বক্তা হয়ে ওঠেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here